1. Don.35gp@gmail.com : Editor Washington : Editor Washington
  2. masudsangbad@gmail.com : Dewan Arshad Ali Bejoy : Dewan Arshad Ali Bejoy
  3. almasumkhan4@gmail.com : Md Al Masum Khan : Md Al Masum Khan
  4. jmitsolution24@gmail.com : Nargis Parvin : Nargis Parvin
  5. rafiqulmamun@yahoo.com : Rafiqul Mamun : Rafiqul Mamun
  6. rakibbhola2018@gmail.com : Rakib Hossain : Rakib Hossain
  7. rajoirnews@gmail.com : Subir Kashmir Pereira : Subir Kashmir Pereira
  8. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
  9. rafiqulislamakash@yahoo.it : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  10. sheikhjuned1982@gmail.com : Sheikh Juned : Sheikh Juned
যেতে যেতে পথে (আত্মকথন) আমার ছাত্রজীবনঃ বখাটে শৈশব ও কৈশোর, (২য় পর্ব) - Washington Sangbad || washington shangbad || Online News portal
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ০১:৩৪ পূর্বাহ্ন

যেতে যেতে পথে (আত্মকথন) আমার ছাত্রজীবনঃ বখাটে শৈশব ও কৈশোর, (২য় পর্ব)

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০২২
  • ৩০ জন সংবাদটি পড়েছেন।

আমার পড়াশোনার হাতেখড়ি থেকেই বাংলা বর্ণমালা অ, আ, ই, ঈ…..-এর পাশাপাশি ইংরেজী A, B, C, D……শেখা শুরু করলাম। বাংলা ও ইংরেজী বর্ণমালাদ্বয় ও এদু’ভাষার কিছু কিছু শব্দ ও সেগুলির বানান শিক্ষার পরপরই আব্বা আমাকে ধরিয়ে দিলেন তাঁদের (অর্থাৎ আমার বাপ-দাদাদের) আমলের দু’টি বই; ‘বাল্যশিক্ষা’ এবং ‘Child’s Easy Grammar’। ঐ দু’টি বই আমাদের সময়ে পাঠ্য ছিল না। আব্বা বললেন, “এই দুটো বই যদি ভালোভাবে পড়ে হজম করতে পারো, তাহলে জীবনে কখনো বাংলা এবং ইরেজী বানানে ভুল করবে না; এবং ইংরেজী লিখতে grammatical বিভ্রম কখনো হবে না। “বাল্যশিক্ষা” ছিল বাংলা ভাষার কঠিন কঠিন যুক্তাক্ষর ব্যবহার কোরে লেখা শব্দসমূহে ভরপুর। যুক্তাক্ষর ব্যবহার কোরে বিভিন্ন শব্দের সেসব বানানের সবগুলি এখন কম্পিউটারের বাংলা ফোণ্ট দিয়ে লেখা কঠিন। যেমন চাঁদের আলোকে ‘বাল্যশিক্ষা’য় লেখা হতো ‘জ্যোৎস্না’। বহু বছর হলো এটিকে সহজ কোরে লেখা হচ্ছে ‘জোছনা’। এখন আমরা লিখি ‘কুজ্ঝটিকা”। ‘বাল্যশিক্ষা’য়  এটিকে আরো জটিল কোরে জ, ঝ, এবং ঞ -এর একটি যুক্তাক্ষর  কোরে লেখা হতো। অন্য কোনো ভাবে লিখলে শিক্ষকেরা সেটিকে ভুল হিসেবে গণ্য কোরে কেটে দিতেন। তবে ‘বাল্যশিক্ষা’র বানানগুলি জানা থাকলে আর কোনো বাংলা শব্দ বানান কোরতে ভুল হবার কথা ছিল না। আর Child’s Easy Grammar বইটিতে এমন সহজ কোরে ইংরেজী ব্যাকরণ বিবৃত ছিল যে তা কারো শেখা  থাকলে ইংরেজীতে বিশুদ্ধ বাক্য লেখা কঠিন হত না। আমি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠতে উঠতেই আমার বাবা  আমার হাতে ‘বাল্যশিক্ষা’ এবং  যদ্দূর মনে পড়ে তৃ্তীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবার সাথে সাথেই Child’s Easy Grammar ধরিয়ে দিয়েছিলেন। এগুলি পড়া আমার জন্য ছিল ওসব বিষয়ে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত পাঠ্যবইয়ের অতিরিক্ত। যখন আমি পঞ্চম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলাম তখন আরো কিছু অতিরিক্ত বই আমার পাঠ্যতালিকায় আমার বাবা যুক্ত কোরে দিলেন। সেগুলি ছিল প্রফুল্ল কুমার দে সরকারের Higher English Grammar,  Composition & Translation (Anglo-Bengali Edition of 1926), যাদব বাবুর পাটীগণিত, কে পি বসুর Algebra, ইত্যাদি। এগুলির প্রত্যেকটি ছিল সাড়ে তিনশত-চারশ’ পৃষ্ঠার বই। আমার প্রাইভেট টিচার আব্বাকে বললেন, “দেখুন এগুলি তো ওর পড়ার সময় এখনো হয় নি। ওর ওপর চাপ খুব বেশি হয়ে যাচ্ছে।”  Higher English Grammar-এ Sentences, Parts of Speech, Numbers, Genders, Tenses, Voice Change, Mood, Narration-সহ English Grammar-এর বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি ছিল Idioms & Phrases, Pairs of words, Appropriate prepostions (এবং সেগুলি ব্যবহার কোরে সৃষ্ট বাক্যসমূহ) এবং Miscellaneous Corrections, ইত্যাদি। এসব ছিল পাতার পর পাতায়। Anglo-Indian ছাত্রদের সুবিধার্থে গ্রামার বইটিতে কোনো বাংলা শব্দ ছিল না বললেই চলে। আমার টিচার আব্বাকে বললেন, “এগুলো এখনো ওর বোঝার বয়স হয় নি।”  আব্বা বললেন, “ওর এখন বোঝার প্রয়োজন নেই। ও এখন এগুলি শুধু মুখস্থ কোরবে। পরে আরো একটু বড় হলেই বুঝবে।” আমার শিক্ষক আমার বাবার সঙ্গে আর তর্ক কোরতেন না।

একদিকে আমার বাবা যেমন আমার ওপর পড়ালেখার এই অসম্ভব ও অযৌক্তিক প্রেসার সৃষ্টি কোরলেন অন্যদিকে তিনি আমাকে কখনো আমার সমবয়সী কারো সাথে মেলামেশা কোরে সেই প্রেসার কিছুটা রিলিজ করার সুযোগও দিতেন না; তাদের সাথে খেলাধুলা করতে দিতেন না। শুধুমাত্র স্কুলে গিয়েই আমার ক্লাসমেটদের সাথে যা মেলামেশার সুযোগ হতো। আমরা ছিলাম এগারো ভাইবোন। তাদের মধ্যে আমার অবস্থান দ্বিতীয়। কিন্তু সিরিয়ালে আমার পূর্বের জন (বোন) এবং আমার ঠিক পরের জন (ভাই) খুব অল্প বয়সেই আমার থেকে দূরে চলে যায়। তাদেরকে আমার নিঃসন্তান কাকা (আমার বাবার বড় ভাই) নিয়ে গিয়েছিলেন। চতুর্থস্থানে ছিল আমার একবোন। তাঁকে নিয়ে যায় আমার বিধবা এবং সন্তানহারা খালাআম্মা (আমার মায়ের বড়বোন)। ওরা ছিল তাঁদের নিকট তাঁদের প্রাণের চেয়ে প্রিয়। স্কুলে ওপর শ্রেণিতে না ওঠা পর্যন্ত ওদেরকে আর বাবার সংসারে ফিরিয়ে আনা হয় নি। কিন্তু আমার ইমিডিয়েট আগে-পরের কয়েকজন ভাইবোন আমার সেই অল্প বয়সে দূরে চলে যাওয়ায় আমি  ভীষণভাবে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলাম। আমার অন্যান্য ভাইবোন ছিল আমার চেয়ে অনেকখানি ছোট। তা্রা ছিল আমার অনেক আদরের। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার চিন্তা ও ভাবের আদান-প্রদান হতো না। আমার বাবা আমার সমবয়সী কারো সাথে আমাকে মেলামেশাও করতে দিতেন না। অবশ্য মেলামেশার জন্য উপযুক্ত ছেলেদের সংখ্যাও ছিল আমাদের আশেপাশে নিতান্তই কম। কোনো সমবয়সী মেয়েও ছিল না। আর থাকলেই বা কি হতো? মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশা তো ছিল out of the question। যদি ইঁচড়ে পাকা হয়ে নষ্ট হয়ে যাই। সৃষ্টিকর্তাও আমার বাবার ইচ্ছের অনুকূলে ছিলেন। আমার তিনকুলে কোনো আত্মীয় বোন, অর্থাৎ খালাতো, মামাতো, ফুফাতো, চাচাতো, কোনো তো তেই কোনো বোন আমার ছিল না। বহু বছর পরে দু’তিন জন বোনের আবির্ভাব হয়েছিল আমার এক মামার পরিবারে। আমার বয়সের চৌহদ্দির ধারের কাছেও তাদের অবস্থান ছিল না। ফলে ঘরে-বাইরে কারো সাথে মেলামেশার কোনো সুযোগ ছিল না আমার। ঐ নিঃসঙ্গতা আমার হৃদয়কে কুরে কুরে খাচ্ছিল। কিন্তু কারো চোখে তা পড়তো না। তার থেকে পরিত্রাণের কোনো পথও খোলা ছিল না আমার জন্য। আমি ছিলাম যেন এক অন্ধকারাগারের এক সঙ্গীবিহীন কয়েদী। বিকেল বেলা আমার ইচ্ছে হতো দূরে মাঠে গিয়ে এলাকার ছেলেপেলেরা যারা খেলতে আসে তাদের সাথে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে এবং একসাথে খেলাধুলা কোরতে। কিন্তু আমার চাইল্ড-সাইকোলজিকে-থোড়াই-কেয়ার-করা বাবা আমাকে কারো সাথে গিয়ে খেলাধুলা কোরতেই দিতেন না। তিনি যে আমার মানসিক দুর্ভোগ বুঝতেন না তার  একটি কারণ আমি বোধকরি খুঁজে পেয়েছিলাম বড় হবার পর। আমার বাবার একমাত্র ভাই ছিলেন তাঁর চেয়ে প্রায় পনেরো বছরের বড়। স্রষ্টার নিকট আরেকটি সন্তানের জন্য অনেক প্রার্থনার পর আমার পিতামহ এবং পিতামহী পেয়েছিলেন আমার  বাবাকে। কিন্তু আমার পিতামহ মৃত্যুবরণ কোরেছিলেন আমার বাবার বয়স যখন মাত্র তিন বছর। আমার বাবার বড় ভাই, অর্থাৎ আমার কাকা, আমার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। ঠিক পিতার মতো। শুনেছি, আমার বাবা যেদিন থেকে দুধের সর খাওয়া শুরু কোরেছিলেন সেদিন থেকে আমার কাকা আর সর খেতেন না। সবটুকুই তার প্রাণপ্রিয় ছোটভাইকে দিতেন। আমার কাকা কখনোই তাঁর গায়ে হাত তোলেন নি। বরং সবকিছুতেই খুব প্রশ্রয় দিতেন। কাকা গোপালগঞ্জে কৃ্ষি বিভাগে ক্লার্ক পর্যায়ে চাকরি কোরতেন। চাকরির পুরো বেতনটি আব্বাকে দিয়ে দিতেন। আমার বাবা তখন খুলনার দৌলতপুরস্থ বি এল কলেজে পড়াশোনা কোরতেন। আমার পিতামহের সময় থেকেই গ্রামে আমাদের গোষ্ঠীর সকল পরিবারের চেয়ে আমাদের মাঠের ফসলি জমিজমা, ফলফলালির  ভিটেমাটি, শাক-সব্জির পালান, ইত্যাদি বেশি ছিল। সাংবাৎসরিক সকল ব্যয় নির্বাহ কোরেও হাতে উদ্বৃত্ত টাকাপয়সা থাকতো। কাজেই কাকার বেতনের টাকা সংসারে খরচ করার প্রয়োজন হতো না। সব কিছুতেই প্রশ্রয় পাওয়া আমার বাবা নিঃসঙ্গতার যে কী কষ্ট তা বুঝতে পারতেন না। কিন্তু সেই কষ্ট আমি হাড়ে হাড়ে ভোগ করেছি। বাবা চাইতেন স্কুল থেকে ফেরার পর আমি সারাক্ষণ বসে বসে পড়াশোনা করি। সন্ধ্যায় পড়তে বসে রাত বারোটা একটা পর্যন্ত পড়তে থাকলেও বাবা কখনো বলতেন না ঘুমুতে যেতে। অথচ, তাঁর অনুমতি ব্যতীত ঘুমুতে যেতেও পারতাম না। স্কুলের পড়ার বাইরেও তিনি উপরোক্ত বিপুলায়তন বইগুলো থেকে পড়া দিয়ে রাখতেন। হঠাৎ হঠাৎ কোরে তিনি আমার পড়া ধরতেন। সেই পড়া ধরার ধরনও তাঁর ছিল অদ্ভুত।

(চলবে…………..)

মুহম্মদ আজিজুল হক,লেখক: চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত. 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION