1. Don.35gp@gmail.com : Editor Washington : Editor Washington
  2. masudsangbad@gmail.com : Dewan Arshad Ali Bejoy : Dewan Arshad Ali Bejoy
  3. almasumkhan4@gmail.com : Md Al Masum Khan : Md Al Masum Khan
  4. jmitsolution24@gmail.com : Nargis Parvin : Nargis Parvin
  5. rafiqulmamun@yahoo.com : Rafiqul Mamun : Rafiqul Mamun
  6. rakibbhola2018@gmail.com : Rakib Hossain : Rakib Hossain
  7. rajoirnews@gmail.com : Subir Kashmir Pereira : Subir Kashmir Pereira
  8. jmitsolutionbd@gmail.com : jmmasud :
  9. rafiqulislamakash@yahoo.it : Rafiqul Islam : Rafiqul Islam
  10. sheikhjuned1982@gmail.com : Sheikh Juned : Sheikh Juned
যেতে যেতে পথে (আত্মকথন) আমার ছাত্রজীবনঃ বখাটে শৈশব ও কৈশোর পর্ব - Washington Sangbad || washington shangbad || Online News portal
সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২, ১২:২৫ পূর্বাহ্ন

যেতে যেতে পথে (আত্মকথন) আমার ছাত্রজীবনঃ বখাটে শৈশব ও কৈশোর পর্ব

  • প্রকাশিত : সোমবার, ১ আগস্ট, ২০২২
  • ৪০ জন সংবাদটি পড়েছেন।
সন্তানদের নিয়ে আমার বাবার আকাঙ্ক্ষা ছিল আকাশচুম্বী। অন্যান্য অসংখ্য পিতার মতোই তিনিও নিজের জীবনের অপূর্ণ স্বপ্ন ও সাধের পূর্ণতা দেখতে চেয়েছিলেন তাঁর সন্তানদের মাঝে। শুধু স্বপ্ন নয়, সে স্বপ্ন বাস্তবায়নের অক্লান্ত প্রচেষ্টা ছিল তাঁর। তবে তার সে প্রচেষ্টার পদ্ধতি ছিল ভীষণ ত্রুটিপূর্ণ ও অনেকাংশে অকার্যকর। সে গল্পে একটু পরে আসি। প্রথমে বলি কি ভাবে শুরু হয়েছিল আমার ছাত্রজীবন। আমার বাবা এবং মা আমার এগারো ভাইবোনদের কারোরই জন্ম তারিখ লিখে রাখেন নি। তাই স্কুলে ভর্তি হবার সময় একটি আনুমানিক হিসাবের ভিত্তিতে আমার জন্ম তারিখ দেয়া হলো ১/১১/১৯৫৫। তখনকার দিনে আমাদের দেশের খুব কম সংখ্যক বাবা-মা’ই তাদের সন্তানদের জন্ম তারিখ লিখে রাখতেন। কারো কোনো জন্মদিনও পালনের রেওয়াজ ছিল না। অন্ততঃ মধ্যবিত্ত পরিবারে। উচ্চবিত্ত পরিবারে কি হতো ঠিক জানা নেই; তবে কৃ্ষিপ্রধান মধ্যবিত্তের পুর্ববাংলায়/পূর্ব পাকিস্তানে উচ্চবিত্ত পরিবারের সংখা ছিল হাতে গোনা। ব্রিটিশ  আমল থেকেই জন্ম, মৃত্যু, এমনকি বিয়ে-শাদী নিবন্ধনের আইন (The Births, Deaths and Marriages Registration Act, 1886 –Bengal Act VI of 1886) বিদ্যমান থাকলেও সেসব আইনের কোনো  প্রয়োগ ছিল না বললেই চলে, সম্ভবত নানাবিধ প্রাক্টিক্যাল ডিফিকাল্টির কারণে। তাই ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে ভর্তির সময় বাবা-মা একটা আনুমানিক জন্ম তারিখ দিয়ে দিতেন। আর যে ক্ষেত্রে পিতামাতা নিরক্ষর হতেন এবং সন্তানের জন্ম তারিখ নির্ধারণে দ্বিধান্বিত থাকতেন, সে ক্ষেত্রে স্কুলে ভর্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকই অনুমান কোরে একটি তারিখ নির্ধারণ কোরে দিতেন। ঐ অনুমানভিত্তিক নির্ধারিত জন্ম তারিখটি আর একবার পরিবর্তনের সুযোগ আসতো অষ্টম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণিতে ওঠার পর যখন শিক্ষা বোর্ডের সাথে ছাত্রছাত্রীদের নাম রেজিষ্ট্রি করতে হতো। এসব আনুমানিক জন্ম তারিখ নির্ধারণে সাধারণ প্রবণতা থাকতো কোনো মাস কিংবা বছরের প্রথম অথবা শেষ তারিখ গ্রহনের; যেমন ১/১/১৯২০, ৩১/১২/১৯৪৩, ১/৬/১৯৫১, ৩০/১১/১৯৪৭, ইত্যাদি। আমার ক্ষেত্রেও আমার জন্ম তারিখটি আনুমানিক ছিল। অনেক পরে আমি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন আমার মাতামহ সরদার রজ্জব আলির (যিনি ১৯১২ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংলিশ মিডিয়ামে ম্যাট্রিকিউলেশন পাশ কোরে নিজ গ্রাম বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার কলসি ফুকরাস্থ মদন মহন একাডেমীতে শিক্ষকতা কোরতেন।) ১৯৫৬ সালের পঞ্জিকার ৭ই মার্চ তারিখের বিপরীতে আমার জন্ম তারিখটি পাওয়া যায়। সেখানে আমার মাতামহ লিখেছেন, “আজ হাওয়া খাতুনের (আমার মায়ের নাম) একটি পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে।” অর্থাৎ আমার প্রকৃ্ত জন্ম তারিখ আমার রেজিষ্টার্ড জন্ম তারিখের মাস চারেক পর।
ছেলেমেয়েদের শিক্ষাদীক্ষার বিষয়ে আমার বাবা (আমরা ডাকতাম ‘আব্বা’ বলে) ছিলেন অবিশ্বাস্যভাবে সিরিয়াস, যদিও তিনি নিজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন নি কখনো। তিনি ইংরেজীতে খুব দুর্বল ছিলেন। আব্বা বলতেন, “আমার শিক্ষকগণ আমাকে দেখিয়ে বলতেন ওকে ম্যাথম্যাটিক্স শেখানোর কিছু নেই; ম্যাথে ও খুবই ভালো, কিন্তু ইংরেজীতে খুব দুর্বল।” আরো বলতেন, “আমি যদি ইংরেজীতে দুর্বল না হতাম, তাহলে আমিও এম. এ. পাশ করতাম।” ইংরেজীতে দুর্বলতার কারণ হিসেবে বলতেন গ্রামের স্কুলে ইংরেজী বর্ণমালাই তাঁর শেখার সুযোগ হয় নি চতুর্থ/পঞ্চম শ্রেণিতে ওঠার আগে। ইংরেজীতে তাঁর এই দুর্বলতা পরবর্তীতে ঐ বিদেশী ভাষাটির প্রতি তাঁর এক প্রবল মুগ্ধতা বা আকর্ষণের কারণ হয়ে উঠলো; এবং সেকারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি ইংরেজী সাহিত্য নিয়ে পড়তে অনেকটা বাধ্য হই।
আমার বয়স তখনো পুরোপুরি পাঁচ হয়ে ওঠে নি। শৈশবের অবাধ অতিমুক্ত চিন্তাহীন জীবন ও আমার বালক্রীড়ামত্ততার অকাল সমাপ্তি ঘটিয়ে আমার বাবা আমাকে ভর্তি কোরে দিলেন একটি সরকারি প্রাইমারী স্কুলে। ওটি ছিল তৎকালীন মাদারীপুর জেলার (বর্তমানে শরীয়তপুর জেলার) নড়িয়া উপজেলার চর আত্রা ইউনিয়নে। ঐ স্কুলে পড়ার স্মৃতি আমার কুয়াশাচ্ছন্ন; মাত্র হাতেগোনা কয়েকদিনের। তার পরপরই আমার বাবা ফরিদপুর জেলা শহরের নিকটবর্তী কানাইপুরে বদলি হয়ে যাওয়ায় আমরা চর আত্রা থেকে বিদায় নিই। কানাইপুর একটি বড় বাজার। দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে কানাইপুরের গুরুত্ব সুদীর্ঘকালের। কানাইপুর বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে খাসকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ঐ স্কুলের হেড মাষ্টার সাহেব আব্বার অফিসে তাঁর কী এক কাজে এসেছিলেন। আমার কথা জেনে আমার বাবাকে অনুরোধ কোরলেন তাঁর স্কুলে আমাকে ভর্তি কোরতে। আমাকে সেখানে ভর্তি করা হোলো। আমার বাবার ইমিডিয়েট জুনিয়র কলিগের ছেলেও ঐ স্কুলে পড়তো, আমার এক ক্লাস ওপরে, ক্লাস টু-তে। ছেলেটির নাম ছিল সাইফুল। আজ সে কোথায় আছে জানি না। সেটিই ছিল আমার ছাত্রজীবনের প্রকৃ্ত শুরু। সেই স্কুলেই আমি তৃ্তীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলাম। আমাদের সময় ঐসকল গ্রামের স্কুলে কোনো প্রিস্কুল বা নার্সারি শ্রেণি বোলে কিছু ছিল না। ছেলেমেয়েদেরকে সরাসরি ক্লাস ওয়ানে ভর্তি করা হোতো পাঁচ-ছয় বছর বয়সে। আমার বাবা আমাকে আমার পাঁচ বছর বয়স হতে না হতেই স্কুলে ভর্তি কোরেছিলেন। ছাত্রজীবনের প্রারম্ভিক বছরগুলিতে স্কুলে যেতে আমার খুব আগ্রহ ছিল। অনেক সময়ই আমার মা হয় তো সকালের খাবার দিয়ে রেখেছেন, তা সত্ত্বেও স্কুলে যেতে বিলম্ব হয়ে যাবে সেই অজুহাতে না খেয়েই স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হতাম। যেতে যেতে পশ্চাতে মা’র বকুনি শুনতে পেতাম। যদ্দূর মনে পড়ে, আমাদের সময় প্রাথমিক স্কুলে আমাদের বাংলা বইয়ের নাম ছিল ‘কচিকথা’। প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা বইয়ের একই নাম ছিল। শুধু ‘কচিকথা’ নামটির নীচে বইটি যে শ্রেণির জন্য পাঠ্য সেই শ্রেণির নাম লেখা থাকতো। বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নতুন ক্লাসের বইয়ের জন্য তথাকথিত ‘লাইব্রেরী’, অর্থাৎ বুকশপে যেতাম প্রতিদিন নতুন বইয়ের আশায়। কারণ, এখনকার ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আমাদেরকে বিনা পয়সায় সরকার কর্তৃক বই সরবরাহ করা হতো না। প্রতিদিনই বুকশপে গিয়ে বসে থাকতাম বহুক্ষণ; যে কোনো সময় বই এসে পৌঁছতে পারে সেই সম্ভাবনায়। বুকশপের লোকদের আমার বাবা বলেই রাখতেন বই আসলেই আমাকে দিয়ে দেবার জন্য। বইয়ের মূল্য পরিশোধ নিয়ে আমার কখনো চিন্তা করতে হতো না। নতুন ক্লাসের বই হাতে পাবার সে কী আনন্দ। বইগুলির ঘ্রাণ টেনে নিতাম বুক ভরে। বইয়ের ছবিসমূহ দ্রুত দেখে নিতাম। বাংলা বইটির প্রতি বিশেষ আকর্ষণ অনুভব কোরতাম। হাতে আসবার পর পরই পড়া শুরু কোরে প্রথম দিনেই প্রায় সবগুলি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, ইত্যাদি পড়ে ফেলতাম। বাংলা বই পড়া শেষ হলে অন্যান্য বই। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে গিয়ে আমার বাবার বদলিজনিত কারণে তিনবার আমার স্কুলের পরিবর্তন ঘটেছে। ঐ সময়কালে আমার বাবা কানাইপুর থেকে বোয়ালমারি, অতঃপর  বোয়ালমারি থেকে মুকসুদপুর বদলি হন। কানাইপুরে আমি ১ম ও ২য় শ্রেণিতে পড়েছি, বোয়ালমারিতে ছিলাম ৩য়, ৪র্থ, ও ৫ম শ্রেণিতে, এবং মুকসুদপুর গিয়ে আমাকে হাই স্কুলে ভর্তি করা হয় ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে।
(চলবে…………..)

 

লেখকঃ মুহম্মদ আজিজুল হক-চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত.                                                                    

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020
Design & Developed by : JM IT SOLUTION